ঢাকাশুক্রবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. ই-পেপার
  4. ইউনিকোড কনভাটার
  5. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  6. ইনতিজার শিশুবৃত্তি
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনযাপন
  11. দেশজুরে
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

পবিত্র জুমার দিন: মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ইবাদতের সেরা উপলক্ষ্য

প্রতিবেদক
intizarbd
অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

এম মুহাম্মাদ নাজমুল হক :

জুমার দিন ইসলাম ধর্মে একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সপ্তাহের এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য সাপ্তাহিক ঈদ বা উৎসবের দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিনে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে।

জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত

কুরআন ও হাদিসে জুমার দিনের মহিমা অসংখ্যবার বর্ণিত হয়েছে:

  • সাপ্তাহিক ঈদের দিন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “জুমার দিন সব দিনের সরদার এবং আল্লাহর কাছে সব দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই দিনটি ঈদুল আজহা এবং ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।”
  • সৃষ্টির সূচনা ও সমাপ্তি: এই দিনেই আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে নামানো হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতও জুমার দিন সংঘটিত হবে।
  • দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা কবুল করেন। হাদিসে এই মুহূর্তটি অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে, যা সাধারণত আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত হতে পারে।
  • গুনাহ মাফ: রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা লাভ করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং মসজিদে গিয়ে মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনে ও চুপ থাকে, তার এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত সংঘটিত ছোট গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”

জুমার দিনের বিশেষ আমলসমূহ

জুমার দিনের বরকত হাসিলের জন্য প্রতিটি মুসলিমের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা উচিত:

  1. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: জুমার দিন ভালো করে গোসল করা সুন্নাত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করাও মুস্তাহাব।
  2. দাঁতন (মিসওয়াক) ব্যবহার: দাঁতন বা মিসওয়াক করা এই দিনের অন্যতম সুন্নাত।
  3. সকাল সকাল মসজিদে গমন: জুমার নামাজের জন্য তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। প্রতিটি ধাপে বান্দার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে।
  4. মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা: ইমামের খুতবা শুরু হওয়ার পর নীরব থেকে মনোযোগ সহকারে তা শোনা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা নিষিদ্ধ।
  5. বেশি বেশি দরুদ পাঠ: জুমার দিনে এবং রাতে রাসূল (সাঃ)-এর উপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা উচিত।
  6. সূরা কাহফ তিলাওয়াত: জুমার দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করে, আল্লাহ তাকে এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত নূর দ্বারা আলোকিত করেন।
  7. বেশি বেশি দোয়া: দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা।

জুমার নামাজের গুরুত্ব

জুমার নামাজ হলো মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক সম্মেলন। জুমার নামাজ আদায় করা পুরুষদের জন্য ফরজে আইন (বাধ্যতামূলক)। বিশেষ ওযর (যেমন গুরুতর অসুস্থতা বা ভ্রমণ) ছাড়া এটি ত্যাগ করা কঠিন গুনাহের কাজ। জুমার নামাজ একটি সম্মিলিত ইবাদত, যা মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে।


জুমার দিনটি কেবল একটি সাপ্তাহিক ছুটি নয়, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। তাই, প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর ইবাদত, আনুগত্য ও সৎকাজে ব্যয় করে তার অপার বরকত লাভ করা।

সর্বশেষ - দেশজুরে