রায়গঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা গরুর হাটের দক্ষিণে ট্রাফিক সিগন্যালে সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতেই সড়কের মূল লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা তিনটি পণ্যবাহী ট্রাককে পেছন থেকে একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দিলে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিগন্যালের কারণে মহাসড়কের চলমান লাইনের উপরেই তিনটি মালবোঝাই ট্রাক দাড় করানো ছিল। এ সময় বগুড়া থেকে ঢাকাগামী আরেকটি ট্রাক পেছন থেকে এসে সজরে ধাক্কা দেয়। এতে পরপর তিনটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি ট্রাকের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এসময় গাড়ি চালক ও হেলান কেভিনে আটকে যায়। পরে ষোলো মাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে আটকে থাকা চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে।
যদিও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের মতো দ্রুতগতির সড়কে মূল লাইনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে সিগন্যাল দেওয়া সম্পূর্ণ অবিবেচক ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, ঘটনাস্থলে কোনো বড় যানজট ছিল না, তবুও চলন্ত লাইনে গাড়ি থামানো হয়—যা সরাসরি এই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এটা সরাসরি অব্যবস্থাপনা। মহাসড়কে এভাবে গাড়ি দাঁড় করানো মানেই দুর্ঘটনার মূল কারন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি কোনো একটি ট্রাক উল্টে যেত, তাহলে মুহূর্তেই ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পুরো অংশ বন্ধ হয়ে যেত এবং সৃষ্টি হতো দীর্ঘ যানজট ও চরম ভোগান্তি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি
মহাসড়কের মূল লাইনে কোনোভাবেই সিগন্যাল দিয়ে যানবাহন থামানো যাবে না
অবিলম্বে রাস্তার ধারে নির্দিষ্ট সিগন্যালিং জোন বা নিরাপদ লে-বাই তৈরি করতে হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—“আর কত বড় দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ বাস্তব পদক্ষেপ নেবে…?”
স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চান্দাইকোনা অংশটি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।


















