ঢাকাশুক্রবার , ৩ জুলাই ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. ইনতিজার শিশুবৃত্তি
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. দেশজুরে
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রযুক্তি
  13. ফিচার
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত: মুমিনের সাপ্তাহিক ঈদের দিন

প্রতিবেদক
intizarbd
জুলাই ৩, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

এম মুহাম্মাদ নাজমুল হক :

ইসলাম ধর্মে জুমার দিন বা শুক্রবার অত্যন্ত বরকতময় এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। মহান আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে সপ্তাহের অন্য সব দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পবিত্র কুরআনে এই দিনের নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাযিল হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

একটি তথ্যবহুল এবং সুন্দর ওয়েবসাইট পোস্টের জন্য জুমার দিনের গুরুত্ব, ফজিলত এবং কিছু বিশেষ আমল নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

জুমার দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলামী ইতিহাসে জুমার দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। আর জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।” (সহীহ মুসলিম)

অন্য এক হাদীসে এসেছে, মহান আল্লাহ এই দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বিশেষ নিয়ামত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই দিনের কিছু বিশেষ ফজিলত নিম্নরূপ:

  • গুনাহ মাফের মাধ্যম: এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের ছোটখাটো গুনাহগুলো আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
  • বিশেষ দুআ কবুলের সময়: জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা কবুল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)।
  • শহীদি মর্যাদা: কোনো মুসলিম যদি জুমার দিনে বা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করেন, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফিতনা বা আজাব থেকে রক্ষা করেন (তিরমিযী)।

জুমার দিনের প্রধান আমলসমূহ

জুমার দিনের পূর্ণ বরকত ও সওয়াব লাভ করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সুন্নাত ও আমল রয়েছে। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের উচিত এই দিনে নিচের আমলগুলো যত্নসহকারে আদায় করা:

১. দ্রুত মসজিদে যাওয়া ও প্রস্তুতি নেওয়া

জুমার সালাতের জন্য আগে আগে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন যে ব্যক্তি সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। এরপর যে আসে, সে যেন একটি গাভী কোরবানি করল (বুখারী)।

২. গোসল, সুগন্ধি ও উত্তম পোশাক পরিধান

জুমার নামাজে যাওয়ার আগে ভালো করে গোসল করা (যা আবশ্যক বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা), মিসওয়াক করা, সাধ্যমতো উত্তম বা পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা সুন্নাত।

৩. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা

জুমার দিনের অন্যতম বিশেষ আমল হলো সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত একটি বিশেষ নূর বা আলো চমকাতে থাকবে।

৪. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা

ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কোনো ধরনের কথা বলা, এমনকি কাউকে “চুপ করো” বলাও নিষেধ। চুপচাপ খুতবা শোনা নামাজ কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত।

৫. বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা

জুমার দিন ও রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি সর্বোত্তম। তাই এই দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” (আবু দাউদ)।

৬. আসরের পর দুআ করা

হাদীস বিশারদদের মতে, জুমার দিনের যে বিশেষ মুহূর্তে দুআ কবুল হয়, তা হলো আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়। বিশেষ করে সূর্য ডোবার আগের সময়টুকু দুআ কবুলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

জুমার নামাজ বর্জনের ভয়াবহতা

জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরয ইবাদত। অবহেলা করে জুমার নামাজ বর্জন করার ব্যাপারে ইসলামে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:

“যে ব্যক্তি অলসতাবশত টানা তিনটি জুমা বর্জন করবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।” (আবু দাউদ)

তাই দুনিয়াবী শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও জুমার দিনটিকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে নিয়োজিত করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

উপসংহার

জুমার দিন কেবল আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহাসুযোগ। সপ্তাহের এই বিশেষ দিনটিতে আমাদের উচিত দুনিয়াবী কোলাহল থেকে কিছুটা সময় বের করে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, দরুদ পড়া এবং জুমার সুন্নাতগুলো সঠিকভাবে পালন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের হাকীকত ও বরকত পূর্ণাঙ্গভাবে দান করুন। আমীন।

সর্বশেষ - শিক্ষা