সাকিব খান, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। গত কয়েকদিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরের সহস্রাধিক পরিবার।
সরেজমিনে সলিমাবাদ ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে চোখের পলকে ধসে পড়ছে নদীর তীর। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে আসবাবপত্র ও কাঠ সরিয়ে নিচ্ছেন। চোখের সামনে নিজের বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেকেই।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয় না। ফলে বারবার তাদের ঘরবাড়ি সরাতে হয় এবং তারা আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ভাঙন কবলিত এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ত্রাণ বা চাল-ডাল চাই না, আমরা যমুনার এই বুক থেকে বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই। সরকার যেন দ্রুত এখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করে।”
ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সলিমাবাদের ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও পাকা রাস্তাসহ বিস্তীর্ণ জনপদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল ভাঙন রোধে অতি দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হস্তক্ষেপ এবং জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

















