এম মুহাম্মদ নাজমুল হক:
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে মাদকের একটি চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর দুইজনকে আহত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশে প্রথমে মোক্তার কামাল নামে এক ব্যক্তির মরদেহ এবং আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে একই দিন দুপুর ১টার দিকে হ্নীলার উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাংয়ের মধ্যবর্তী একটি পেয়ারা বাগান থেকে আকবর (২৫) নামে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা ও টেকনাফ থানা পুলিশ।
নিহত মোক্তার কামাল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে, দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধার হওয়া আকবর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজন ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁদের উদ্ধারের সময় দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর পরিচয় মোক্তার কামাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়। একই স্থান থেকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসনের ছেলে ইলিয়াস এবং একই এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আহত ইলিয়াসের দাবি, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরের পথে ডাকাত দলের সদস্যরা চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ইলিয়াস আরও দাবি করেন, হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান তাঁদের চারজনকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বিচারের কথা বলে সোমবার রাতে হ্নীলার একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। ওই ব্যক্তিদের কাছে অস্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। নির্যাতনের একপর্যায়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। পরে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হলেও তাঁদের সঙ্গে থাকা অপর একজন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানান ইলিয়াস।
পরবর্তী সময়ে উলুচামরী-লেচুয়াপ্রাং মধ্যবর্তী পেয়ারা বাগান থেকে আকবরের মরদেহ উদ্ধারের পর চারজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু এবং দুজনের জীবিত উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়।
আহত ইলিয়াসের দাবি, মাদকের ওই চালানটির মালিক হ্নীলার এক মাদক কারবারি।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
















