ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. ইনতিজার শিশুবৃত্তি
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. দেশজুরে
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রযুক্তি
  13. ফিচার
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

ভূঞাপুরে সংযোগ সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া নৌকায় পারাপারে ভোগান্তি

প্রতিবেদক
intizarbd
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

কোরবান আলী তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সংযোগ সেতু না থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। শাখা নদীর দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ছোট্ট একটি খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে জন প্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোন পদক্ষেপ না পাওয়ায় হতাশ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জুয়াদ আলী মোড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনার শাখা নদী লৌহজং। লৌহজং নদীর উত্তর পাশে রামপুর, গোপিনাখপুর, রায়ের বাসালিয়া, খন্দকার পাড়া, ভূঁইয়া পাড়া সহ ৬/৭টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। শাখা নদীটির দু’পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর উপর নেই সংযোগ সেতু। যাতায়াতে একমাত্র ভরসা ছোট্ট খেয়া নৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ পাড়াপাড় হয় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকায়। অনেক সময় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। রাতের বেলায় অনেক সময় নৌকায় মাঝি না থাকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে পার হন অনেকে।

এছাড়াও সেতুর অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দিতে পারছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার অযুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায় বর ও কনে পক্ষের লোকজন। এমনকি জরুরী প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত করতে না পারায় ছিন্ন হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দীন ও বশির মিয়া বলেন- দীর্ঘদিন ধরে আমরা খেয়া নৌকা দিয়ে উপজেলা শহর ও হাট বাজারে যাতায়াত করি। নৌকা দিয়ে ফসল পারাপার করতে আমাদের বেশি কষ্ট হয়। এছাড়াও আমাদের সন্তানরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করে। সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকাটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।

খন্দকার পাড়ার আব্দুর রশিদ, হানিফ আলী ও বাদশা মিয়া বলেন- যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের সাথে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগীদের অবস্থা আশঙ্কা হয়ে যায়। সময় মতো আমরা হাসপাতালে যেতে পারি না। নৌকা দিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন আমাদের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও মা বোনেরা। একটি সেতু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি সহ আমরা আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বচ্ছলতা লাভ করবো সেই সাথে দূর হবে যাতায়াতের দুর্ভোগ।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব হাসান জানান- সরেজমিনে আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এখানে একটি  ব্রিজটি অতীব জরুরি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সর্বশেষ - শিক্ষা