১৯৭৮ সালে হাত-পা নাড়ানো ছোট বিভিন্ন পুতুল বা স্মার্ট প্লে সিস্টেম প্রথম বাজারে এনেছিল লেগো, যা ছিল কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাইলফলক।
এসব ব্লক দেখতে হুবহু সাধারণ ব্লকের মতোই এবং অন্যান্য ব্লকের মতো একটির ওপর আরেকটি গেঁথে দেওয়া যায়।
প্রথমবারের মতো স্মার্ট ব্রিক বা খেলনা ব্লক বাজারে আনছে ডেনিশ খেলনা প্রস্তুতকারক কোম্পানি লেগো। এসব ব্লককে গত কয়েক দশকের মধ্যে নিজেদের ‘সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কোম্পানিটি।
নতুন এসব ব্লক দেখতে হুবহু সাধারণ ব্লকের মতোই এবং অন্যান্য ব্লকের মতো একটির ওপর আরেকটি গেঁথে দেওয়া যায়। এর ভেতরে থাকা উন্নত ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি অন্য স্মার্ট ব্লক ও মিনিফিগারের উপস্থিতি টের পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শব্দ বা আলোর ঝলকানি তৈরি করে খেলার অভিজ্ঞতাকে জীবন্ত করে তোলে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
গোটা বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি যেখানে নিজেদের নতুন সব উদ্ভাবনের প্রদর্শন করে সেই ‘কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো’ বা সিইএস ২০২৬ মেলায় নিজেদের এ প্রযুক্তিটি সবার সামনে এনেছে লেগো।
এসব স্মার্ট ব্লক ও মিনিফিগার দুটি ‘এএএ’ ব্যাটারির সাহায্যে চলে। এগুলো ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এ ব্লুটুথ প্রযুক্তিটিও একটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উদ্ভাবন।
মঙ্গলবার লেগো বলেছে, ব্লকগুলোকে কীভাবে নাড়াচাড়া করা হচ্ছে তা এ ব্লকের ভেতরে থাকা অ্যাক্সিলারোমিটার সেন্সর শনাক্ত করতে পারে। ফলে এসব ব্লক নড়াচড়ার ওপর ভিত্তি করে শব্দ ও আলোর আবহ তৈরি করে। এগুলো একদিকে কাত হতে পারে বা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও দেখাতে পারে।
“প্রতিটি স্মার্ট মিনিফিগার বা লেগো পুতুল নিজের পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। এগুলোর নিজস্ব শব্দ, মেজাজ বা অভিব্যক্তি ও প্রতিক্রিয়া রয়েছে, যার সবই মূলত স্মার্ট ব্রিকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।”
লেগো বলেছে, কোনো ধরনের তার ব্যবহার না করেই এসব নতুন ব্লকের ভেতরে অনেক ইলেকট্রনিক পার্টস বসাতে পেরেছে তারা। তারের বদলে ‘ইন্ডাক্টিভ চার্জিং কয়েল’ ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি, যা অনেকটা ইলেকট্রিক টুথব্রাশ বা আধুনিক স্মার্টফোনের ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তির মতোই।
লেগোর গবেষকরা বলছেন, একটি ব্লকের ভেতরে থাকা এসব কয়েল কাছাকাছি থাকা অন্য স্মার্ট ব্লক ও মিনিফিগারকে শনাক্ত করতে পারে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ‘একদম শূন্য থেকে সম্পূর্ণ এক পজিশনিং সিস্টেম তৈরি করেছেন’ তারা।
১৯৭৮ সালে হাত-পা নাড়ানো ছোট বিভিন্ন পুতুল বা স্মার্ট প্লে সিস্টেম প্রথম বাজারে এনেছিল লেগো, যা ছিল কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাইলফলক। এখন কোম্পানিটি বলেছে, তাদের ‘সবচেয়ে বৈপ্লবিক উদ্ভাবন এসব স্মার্ট ব্লক’।
মার্চ মাস থেকে এসব স্মার্ট বিল্ডিং ব্লক বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে রেগো। এসব ব্লকের প্রতিটির সঙ্গে থাকছে নিজস্ব রং-শনাক্তকারী স্ক্যানার ও একটি সাউন্ড সিন্থেসাইজার, যা ‘প্রায় যে কোনো ধরনের শব্দ’ তৈরি করতে পারে।
এসব ব্লক চার্জিং প্যাডের সাহায্যে তারবিহীনভাবে চার্জ করা যাবে।
লেগো বলেছে, ‘স্টার ওয়ার্স’-এর জনপ্রিয় চরিত্র ‘ডার্থ ভেডার’, ‘লুক স্কাইওয়াকার’ ও ‘প্রিন্সেস লিয়া’র মতো নতুন স্মার্ট মিনিফিগারের প্রত্যেকটির নিজস্ব ‘অনন্য ব্যক্তিত্ব’ রয়েছে। আশপাশের পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে এসব পুতুলের শব্দ, মেজাজ ও প্রতিক্রিয়াও আলাদা আলাদা হবে।
শতাব্দীর শুরুর দিকে ভিডিও গেইম, সিনেমা ও ডিজিটাল অভিজ্ঞতার জগতে পা রাখার আগে নিজেদের সাধারণ প্লাস্টিক ব্লকের জন্যই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল লেগো।
এখন কোম্পানিটি বলছে, তাদের মূল মনোযোগ এখনও শারীরিক বা বাস্তব জগতের খেলার ওপরই রয়েছে।

















