ঢাকাসোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. ইনতিজার শিশুবৃত্তি
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. দেশজুরে
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রযুক্তি
  13. ফিচার
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হলেই ম্যাচসেরা

প্রতিবেদক
intizarbd
জুলাই ১২, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার পর ম্যাচসেরার পুরস্কারটি যখন হাতে নিলেন লামিনে ইয়ামাল, তাঁর চোখেমুখে খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখা গেল না; বরং ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটের সামনে তাঁর শরীরী ভাষায় মিশে ছিল একরাশ উদাসীনতা, যা কিছুদিন আগে অস্ট্রিয়া ম্যাচের পরও দেখা গিয়েছিল।

প্রায় একই রকম প্রতিক্রিয়া ছিল বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা যুক্তরাষ্ট্রের মালিক টিলমানের। পুরস্কার হাতে ক্যামেরার দিকে তাকাতেও যেন তাঁর এক অদ্ভুত অনীহা! যেন জানেন, এই পুরস্কারের জন্য তাঁর চেয়েও বেশি যোগ্য কেউ আছেন।

কিন্তু মাঠের সেরা পারফরমারকে বেছে নেওয়ার এ আনুষ্ঠানিকতা কেন ফুটবলারদের কাছেই মাঝেমধ্যে এতটা ফিকে, এতটা অর্থহীন মনে হয়?

একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাক। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ফিফা প্রথম চালু করেছিল ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার। ২০২২ সালে লিঙ্গনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এর নাম বদলে করা হয় ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’। শুরুর প্রথম দুটি সংস্করণে (২০০২ ও ২০০৬) মাঠের সেরা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল ফিফার ‘টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ’-এর প্রথিতযশা বোদ্ধাদের হাতে। সেখানে আবেগ বা জনপ্রিয়তার চেয়ে ফুটবলের ব্যাকরণই ছিল শেষ কথা।

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে ফিফা এই বিচারের ভার তুলে দিল গ্যালারি আর ড্রয়িংরুমের আমজনতার হাতে। মুঠোফোন এসএমএস আর অনলাইনের মাধ্যমে শুরু হলো ভোটযুদ্ধ। ২০১৪ বিশ্বকাপে ভোট চলল টুইটারে (এখন যা এক্স)। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে ভোট পুরোপুরি চলে গেছে ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। খেলার প্রথমার্ধ থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত যেকোনো সমর্থক মাঠে নামা যেকোনো খেলোয়াড়কে ভোট দিতে পারেন। এমনকি শেষ মুহূর্তে কোনো গোল বা দুর্দান্ত সেভ হলে নিজের ভোট বদলে নেওয়ার সুযোগও থাকে।

আর এখানেই তৈরি হয়েছে এক চরম বৈপরীত্য। জনতার রায় আর পণ্ডিতের বিচার—ফুটবলে এই দুই চিরকালই দুই মেরুর বাসিন্দা। পরিসংখ্যান আর পারফরম্যান্সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এ পুরস্কার এখন রূপ নিয়েছে এক নিছক ‘জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায়’। যেখানে পারফরম্যান্সের চেয়ে খেলোয়াড়ের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’রই বেশি কদর। ২০২২ বিশ্বকাপে কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতার পর খোদ বেলজিয়াম তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা সংবাদ সম্মেলনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি না আমি কোনো দুর্দান্ত ম্যাচ খেলেছি। কেন এই ট্রফি পেলাম জানি না। হয়তো আমার নামের কারণে!’

এই বিশ্বকাপেও সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বারবার। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে যখন ম্যাচসেরা ঘোষণা করা হলো, তখন এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করা ছাড়া পুরো ম্যাচে প্রায় অদৃশ্যই ছিলেন!

একই চিত্র দেখা গেছে আর্জেন্টিনার ম্যাচেও। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের ম্যাচে লিওনেল মেসিকে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। মেসি প্রথম গোলটি করলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ নিজে গোল করেছিলেন এবং মেসির গোলেও অ্যাসিস্ট করেছিলেন। এমনকি কেপ ভার্দের সিডনি কাবরালের সেই অবিস্মরণীয় ২-২ করার গোলটির অবদানও ঢাকা পড়ে গেল মেসির জনপ্রিয়তার আলোয়! আবার ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে জুড বেলিংহাম যখন ম্যাচসেরা হন, তখন আফ্রিকান দলটির রক্ষণভাগের অসামান্য লড়াই কোনো স্বীকৃতিই পায়নি।

তা সত্ত্বেও মহাতারকাদের জয়রথ কিন্তু থামেনি। চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার এই পুরস্কার জেতার রেকর্ডে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি। গতকাল পর্যন্ত নিজের খেলা প্রথম ৫ ম্যাচের মধ্যে ৪টিতেই তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরা। ৩টি করে ট্রফি নিয়ে মেসির পেছনেই আছেন জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্লিং হলান্ড।

আর বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসে তো মেসি সব হিসাবের বাইরে, সর্বোচ্চ ১৫ বার এই ট্রফি উঠেছে তাঁর হাতে।

সর্বশেষ - শিক্ষা